প্রতিটি নারীই যেন পায় নিরাপদ মাতৃত্বের অধিকার

Saturday, May 28th, 2016

13307310_1099856070067330_1903002185538661953_n

ইলা মুৎসুদ্দীঃ ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা, অধিক অর্থ উপার্জন, বৃদ্ধ বয়সে আশ্রয়লাভ, বংশধারা অব্যাহত রাখা ইত্যাদি নানাবিধ কারণে আমাদের সমাজে এখনো কন্যা সন্তানের তুলনায় পুত্র সন্তান অধিকতর কাম্য। যার কারণে বাবা-মা পুত্র সন্তান লাভের আশায় অধিক সন্তান গ্রহণ করে থাকে। এর ফলে একটি সন্তান জন্মদানের পর নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পূর্বেই আরেকটি সন্তান জন্মলাভ করছে। এভাবে ঘন ঘন সন্তান প্রসবের ফলে নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য এবং মাতৃত্ব ঝুঁকিপূর্ণ হয়। এই ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় ৩য় সন্তান জন্মদানের পর। কিন্তু পুত্র সন্তান না হলে আমাদের দেশে নারীদের দায়ী করা হয়। আর পুত্র ও কন্যা সন্তানের বৈষম্যের কারণে আমাদের দেশে নারীদের মাতৃত্ব ও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার পরও ৩ এর অধিক সন্তান জন্ম দিতে বাধ্য করা হয়। শুধু এই ক্ষেত্রেই বৈষম্য নয়, শিক্ষা, খাদ্য পুষ্টি, স্বাস্থ্য সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্যও নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য এবং মাতৃত্বের বলয়কে করছে অরক্ষিত।

বিবাহিত জীবনে একজন নারীর পূর্ণতা পায় মাতৃত্বে। কিন্তু ‘নিরাপদ মাতৃত্বের দায়ভার শুধুই নারীর একার নয়। নারী পুরুষের মিলিত প্রচেষ্টা গড়ে তুলতে পারে প্রসূতি মা এবং নবজাতকের জন্য সুরক্ষিত বলয়। আর এই বলয় নির্মাণে প্রয়োজন প্রজনন সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা।
প্রজনন স্বাস্থ্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিবাহের জন্য একজন নারীর সঠিক বয়স ১৮ এবং একজন পুরুষের ক্ষেত্রে ২১ বছর। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় আমাদের দেশ ”কুড়িতেই বুড়ি” প্রবাদটি এখনো ভুল প্রমাণ করতে পারেনি। ফলে ২০ হওয়ার আগেই অধিকাংশ মেয়ের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে এই বিয়ের বয়স ১২-১৪ বছর এবং শহরাঞ্চলের বস্তিতে ১৪-১৫ বছর। ১৮ বছরের নিচে ৭৫ শতাংশ মেয়ে অভিভাবকের ইচ্ছায় বিয়ে করতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে প্রজননতন্ত্রের পূর্ণ বিকাশ লাভের পূর্বেই কিশোরী মেয়েরা মাতৃত্ব লাভ করছে। যে মাতৃত্ব নারীকে পূর্ণতা দেয়, এক্ষেত্রে সেই মাতৃত্বই কেড়ে নিচ্ছে মা ও শিশুর জীবন। মা নিজেই যখন তার শৈশব অতিক্রম না করে গর্ভধারণ করে তখন স্বাভাবিকভাবেই তার মাতৃত্ব হয় হুমকির সম্মুখীন। যার ফলস্বরূপ দেখা যায় বাল্যবিবাহের শিকার ৫০ ভাগেরও বেশী অন্তঃস্বত্তা নারী মৃত্যুবরন করছে কেবল সচেতনতার অভাবে। স্বাস্থ্য সচেতনতা বলতে শুধু দৈহিক স্বাস্থ্য নয়, মানসিক স্বাস্থ্যকেও বোঝায়। প্রজনন স্বাস্থ্যের সুরক্ষা এবং নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিতকরনের লক্ষ্যে এজজন নারীর সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়া বাঞ্চনীয়। বাস্তবে স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়টি আমাদের দেশে নারীদের ক্ষেত্রে বেশীরভাগ সময় উপেক্ষিত। বিশেষ করে প্রজনন স্বাস্থ্য সুনিশ্চিতকরনের লক্ষ্যে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ, সঠিক সময়ে ওষুধ সেবন, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, সুষম খাদ্য গ্রহণ, গর্ভবতী মায়ের টীকা গ্রহণ নারী নিজে এবং তার পরিবার সচেতন হয় না।

আমাদের দেশে পারিবারিক কুসংষ্কারগুলির বেশির ভাগই নারীকে কেন্দ্র করে। যার কারণে মেয়েরা বয়ঃসন্ধিকাল থেকে সন্তান জন্মদান এমনকি মৃত্যুর পূর্ব পর্য্যন্ত মুখোমুখি হতে হয় কুসংষ্কারের। এই কুসংষ্কারগুলোর সবচেয়ে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে প্রজননস্বাস্থ্য এবং মাতৃত্বের উপর। এই কুসংষ্কারগুলো প্রথমত নারীকে গর্ভবতী অবস্থায় সুষম খাদ্য গ্রহণ ও ওষুধ সেবনে বাধা প্রদান করে এবং দ্বিতীয়ত সঠিক সেবা গ্রহণে বাধা প্রদান করে।
যেমন বলা হয়ে থাকে…….
* বেশি খাদ্য গ্রহণ করলে ভ্রুণের অতিরিক্ত বৃদ্ধি প্রসবকালীন জটিলতা সৃষ্টি করে।
* মাছ, মাংস খাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা। কারণ এই সমস্ত খাদ্য গ্রহণে শিশু বিকলাঙ্গ হয়ে জন্মানোর সম্ভাবনা থাকে।
* অনেক পরিবার ধর্মীয় গোঁড়ামির কারণে পুরুষ চিকিৎসকের নিকট চিকিৎসা সেবা গ্রহণ থেকে বিরতি।
* সন্তান প্রসবকালে বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের তুলনায় বাড়ীতে অল্প শিক্ষিত নার্স বা ধাত্রী দিয়ে বাচ্চা প্রসব করানো।
* প্রসব সংক্রান্ত জটিলতায় সঠিক চিকিৎসা না নিয়ে ওঝা, কবিরাজ এর তাবিজ, পানিপড়া, ইত্যাদির উপর নির্ভরশীল হওয়া।
* রক্তশূন্যতা, গর্ভকালীন জন্ডিস, খিঁচুনী ইত্যাদি সমস্যাকে জ্বীন ভূতের প্রভাব হিসেবে অপব্যাখ্যা প্রদান করা।
* সূর্যগ্রহণ এবং চন্দ্রগহণকালে প্রয়োজনেও খাদ্যগ্রহণ থেকে বিরত থাকা এবং অন্ধকার ঘরে অবস্থান করা।

এই সমস্ত কুসংষ্কারের ফলে মাতৃত্বজনিত মৃত্যু বৃদ্ধি সেই সঙ্গে নারী প্রজনন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত স্থায়ী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অধীনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিচালিত এক জরিপে জানা যায় যে, ৯০ লক্ষ নারী যারা গর্ভধারণ এবং প্রসবকালীন জটিলতার তীব্রতা কাটিয়েও বেঁচে আছেন তারা প্রজনন স্বাস্থ্যজনিত দীর্ঘস্থায়ী নানান সমস্যা যেমনঃ ফিষ্টুলা, জরায়ু সংক্রান্ত জটিলতা ইত্যাদিতে ভোগেন।

চিকিৎসা শাস্ত্র মতে গর্ভকালীন অবস্থায় অনাগত শিশু, প্রজনন স্বাস্থ্য এবং মাতৃত্ব নিরাপদ করার লক্ষ্যে নারীর ১২ বার চিকিৎসা সেবা নেয়া উচিত। অথচ বেশিরভাগ নারীই এই সেবা হতে বঞ্চিত হয় অন্যের উপর নির্ভরশীলতা, অজ্ঞতা, অশিক্ষা এবং অবহেলার কারণে। মাতৃমৃত্যু, প্রজনন স্বাস্থ্যের অবক্ষয় শুধুই একটি স্বাস্থ্য সমস্যা নয় বরং সামাজিক ন্যায় বিচার ও মানুষ হিসেবে নারীর অধিকারের বিষয়। সমাজ নারীর মর্যাদা ও আত্ম-সম্মান বোধকে যতো মূল্য দিয়েছে সেই সমাজ ততো সফলতার সঙ্গে মাতৃ-মৃত্যুর অভিশাপ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পেরেছে। মাতৃ-মৃত্যু রোধ এবং নারী প্রজনন স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করে প্রজন্মের ধারাবাহিকতা। সুতরাং নারীর প্রতি আমাদের সকলের বোধ ও আচরনের সীমাবদ্ধতাকে চিহ্নিত করে এগিয়ে যেতে হবে।

বাংলাদেশে মাতৃ-মৃত্যু হ্র্রাসের জন্য এবং নারীর সম্মান, আত্মমর্যাদা এবং অবস্থানকে উন্নত করার জন্য সামাজিক সাংস্কৃতিক আন্দোলন দানা বাঁধছে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে এমন একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে যা নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষার মাধ্যমে মাতৃমৃত্যু রোধ করবে।

লেখকঃ কলাম লেখক, প্রাবন্ধিক।

D.B. Newsroom editor.

সাম্প্রতিক

রেকর্ড ব্যবধানে শ্রীলংকাকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে বাংলাদেশ

Saturday, January 20th, 2018

ঈদগাঁও বাজারের নির্বাচনের তফশীল শীঘ্রই

Saturday, January 20th, 2018

গোলাপগঞ্জের লক্ষ্মীপাশা থেকে পরিত্যক্ত তাজা গ্রেনেড উদ্ধার

Saturday, January 20th, 2018

গোলাপগঞ্জের বাঘা থেকে অস্ত্র গুলিসহ ডাকাত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেপ্তার

Friday, January 19th, 2018

গোলাপগঞ্জে এহিয়া আহমদ চৌধুরী স্মৃতি বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান শনিবারে

Friday, January 19th, 2018

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হাতির আক্রমনে এক রোহিঙ্গার মৃত্যু

Friday, January 19th, 2018

রামুতে বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ওয়েলফেয়ার মিশনের উদ্যোগে বৌদ্ধ ধর্মীয় বৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন

Friday, January 19th, 2018

আলীকদমে র‌্যাবের অভিযানে ১৩টি দেশীয় অস্ত্র ১৯ রাউন্ড গুলিসহ আটক ৩

Friday, January 19th, 2018

ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৯০ ব্যাচের অভিষেক সম্পন্ন

Friday, January 19th, 2018

উখিয়ায় সরকারি বনভূমির মাটি পাচারকালে ডাম্পার জব্দ

Thursday, January 18th, 2018

লামায় পৌর শহর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

Thursday, January 18th, 2018

কক্সবাজার শিল্পকলা একাডেমি নির্বাচন : প্রার্থীদের প্রচারণায় মুখর সাংস্কৃতিক অঙ্গন

Thursday, January 18th, 2018

ডিসেম্বরের মধ্যে দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে : মুজিবুল হক

Thursday, January 18th, 2018

উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে ফিরেছে ৬৪০ রোহিঙ্গা

Thursday, January 18th, 2018

বরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী শাম্মী আক্তার আর নেই

Wednesday, January 17th, 2018