ত্রিস্মৃতি বিজড়িত বুদ্ধ পূর্ণিমা

Saturday, May 21st, 2016

13238938_1095434623842808_2151375852162731105_nইলা মুৎসুদ্দীঃ বুদ্ধ পূর্ণিমা হলো বৌদ্ধদের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মীয় উৎসব, কারণ এই পবিত্র তিথিতে মহামানব গৌতম বুদ্ধের জীবনের তিনটি ঐতিহাসিক ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল। আজ মহান বুদ্ধ পূর্ণিমা, ২৫৬০ বুদ্ধবর্ষ। এই দিনটি বিশ্বের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ও বরণীয় দিন। এই দিনটি বিশ্বমানবতার জন্য এক মহান তিথি, পরম শুভ লগ্ন। আজ থেকে আড়াই হাজার বছরেরও পূর্বে এমনি এক শুভ তিথিতে মহামানব গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বুদ্ধত্ব লাভ এবং মহাপরিনির্বাণ অর্থাৎ ত্রিস্মৃতি বিজড়িত বুদ্ধ পূর্ণিমা বিশ্বের সকল বৌদ্ধদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। প্রথমেই বলতে হয় বৌদ্ধ মানবজীবন শীল সমাধি প্রজ্ঞাময় জীবন। বৌদ্ধ মতে, শীল সমাধি প্রজ্ঞাময় জীবনের মধ্য দিয়েই একজন মানুষের জীবন গড়ে উঠে। এরকম জীবনে সে কখনও অন্যায় ও অসদাচরণ করতে পারে না। সব সময় কুশল ও পরের কল্যাণ চিন্তা করাই হলো বৌদ্ধ ভাবনা।

উল্লেখ্য যে, ২০০০ সালে জাতিসংঘ এ পূর্ণিমাকে আন্তর্জাতিক “বেসাখ ডে” হিসেবে ঘোষণা করে এবং ওই বছরই সর্বপ্রথম জাতিসংঘের সদর দফতরে বুদ্ধ পূর্ণিমা তথা বেসাখ ডে উদযাপিত হয়। পরে তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদযাপিত হচ্ছে।

অনেকেই বুদ্ধ পূর্ণিমাকে বৈশাখী পূর্ণিমা নামেও অভিহিত করে থাকেন। সারা বিশ্বের বৌদ্ধরা এ পূর্ণিমাকে যথাযথ মর্যাদায় পালন করে থাকে।

সিদ্ধার্থ গৌতমের জন্মঃ শাক্যরাজ শুদ্ধোধন ও অগ্রমহিষী মহামায়া দেবীর পুত্ররূপে জন্মগ্রহণ করেন কুমার গৌতম। দেবী মহামায়া যখন দশমাস কাল অতিক্রম করছেন তখন তাঁর পিত্রালয়ে যাবার সাধ জাগে। রাজা শুদ্ধোধন কপিলাবস্তু থেকে দেবদহ নগরে যাবার সমস্ত ব্যবস্থা করে দেন। কপিলাবস্তু ও দেবদহ নগরের মধ্যবর্তী স্থানে লুম্বিনী উদ্যানে পৌঁছলে দেবীর প্রসব বেদনা শুরু হল। মাতৃকুক্ষি হতে নিষ্ক্রান্ত হয়ে তিনি সপ্তপদ অগ্রসর হন। প্রতি পদক্ষেপে একটি করে সাতটি পদ্মফুল প্রস্ফুটিত হয়। তখন তর্জনী উঁচিয়ে সিংহনাদে ঘোষণা করলেন, “জগতে আমিই অগ্র, আমিই শ্রেষ্ঠ” সেই মহান দিনটি ছিল শুভ বৈশাখী পূর্ণিমা। এক সপ্তাহ পর মহামায়া দেবী মৃত্যুবরণ করলে বিমাতা মহাপ্রজাপতি গৌতমী সিদ্ধার্থের লালন পালনের ভার গ্রহণ করেন বলে সিদ্ধার্থের অপর নাম “গৌতম”। রাজসুখকে জলাঞ্জলী দিয়ে জরা-ব্যাধি ও মরণ দুঃখ অপনোদন মানসে ২৯ বৎসর বয়সের গৃহত্যাগ করেন।

সিদ্ধার্থ গৌতমের বুদ্ধত্ব লাভঃ বুদ্ধত্ব লাভের পর একদিন তথাগত অগ্রশ্রাবক সারিপুত্রকে বললেন, হে সারিপুত্র! আমি এমন সাধনা করেছিলাম যে তাকে দুষ্কর সাধনা বলা হয় যা কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। মহাসত্যক সূত্রে নির্গন্থনাথ পুত্র সত্যককে বলেছেন……. হে সত্যক শ্বাস প্রশ্বাস রহিত জনিত ধ্যান করে এক সময় আমি ভূমিতে পতিত হই। ৬ বছর ধরে অসাধারণ কঠোর থেকে কঠোরতর ধ্যান সাধনার পরেও যখন আমার পক্ষে নির্বাণ দর্শন করা সম্ভব হল না। তখন আমার শৈশবের স্মৃতি উদিত হল। যখন হলকর্ষণ উৎসবে জম্বু গাছের শীতল ছায়ায় আনাপান স্মৃতি ভাবনায় অবস্থান করেছিলাম, এখন থেকে আমি সেই ধ্যানই করব। আমি চিন্তা করলাম, এখন থেকে স্থুল আহার গ্রহণ এবং মধ্যম পন্থা অবলম্বন করব। এভাবে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে ঘুরতে গয়ার উরুবেলার দিকে অগ্রসর হয়ে এক রমণীয় ভূমি ভাগ দেখতে পেলেন। চারিদিকে রমনীয় গোচর গ্রাম। ধ্যান সাধনা করার উপযুক্ত স্থান। সেখানে বোধিবৃক্ষের নীচে ধ্যান করার কথা চিন্তা করলেন। সেই সময়ে সুজাতা নামক এক মহিলা তাঁর দাসী পূর্ণা -কে নিয়ে স্বর্ণপাত্রে পায়সান্ন নিয়ে সেখানে উপস্থিত হলেন। কারণ পুত্র সন্তান লাভ হলে দেবতাকে পায়সান্ন দান করবেন বলে মানত করেছিলেন। সিদ্ধার্থকে দেবতা ভেবে সুজাতা তাঁর পায়সান্ন গৌতমের হাতে তুলে দিলেন। অতঃপর করজোড়ে বন্দনা করে ছেলের মঙ্গল কামনা করলেন। ঊনপঞ্চাশ গ্রাসে সুজাতার পায়সান্ন গ্রহণ করে স্বর্ণপাত্র সহ সিদ্ধার্থ গৌতম নদীর তীরে এসে নদীতে নেমে অধিষ্ঠান করলেন, যদি বুদ্ধ হতে পারি, তবে পাত্রটি উজানে যাবে। জলে ভেসে দেয়ার সাথে সাথে অলৌকিকভাবে পাত্রটি উজানের দিকে চলে গেল। আমি আহার গ্রহণ করায় আমার পঞ্চবর্গীয় শিষ্য আমাকে সন্দেহ করে সাধনা ভ্রষ্ট ভেবে ত্যাগ করে চলে গেলেন। তারপর সিদ্ধার্থ উরুবেলা বোধিবৃক্ষ তলে দৃঢ় বীর্য সহকারে এই বলে ধ্যানস্থ হলেন, এই আসনে দেহ শুকিয়ে অস্থি চর্ম মাংস যাক প্রলয়ে ডুবিয়া, না লভিয়া বোধিজ্ঞান জগতে টলবেনা দেহ মোর এই আসন হতে। তাঁর এই দৃঢ় শক্তির নিকট সমস্ত অপশক্তির বাঁধা অপসারিত হল। এই সেই বৈশাখী পূর্ণিমা । সেদিন তিনি বুদ্ধত্ব লাভ করলেন। তিনি উচ্চারণ করলেন, হে গৃহকারক আমি তোমাকে দেখেছি। তুমি আর আমার দেহ রূপ গৃহ নির্মাণ করতে পারবে না। তোমার গৃহ রচনার সমস্ত উপকরণ আমি ভেঙ্গে ফেলেছি। আমার চিত্ত বিসংষ্কার গত অর্থাৎ নিভৃতি প্রাপ্ত হয়েছে আমি তৃষ্ণার ক্ষয় সাধন করেছি। কাজেই আর জন্মগ্রহণ করব না।

তথাগতের মহাপরিনির্বাণঃ মাঘী পূর্ণিমায় বৈশালীর চাপাল চৈত্যে আয়ু বিসর্জন দেয়ার পর বৈশালীর প্রতি শেষ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে তথাগত বুদ্ধ ভন্ডগ্রাম থেকে গস্তি গ্রাম অতঃপর পাবা নগরে স্বর্ণকার পুত্র চুন্দ নামক শ্রেষ্ঠীর আম্রবনে উপস্থিত হন। চুন্দর বাড়ীতে আহার গ্রহণের পর বুদ্ধ আনন্দসহ ভিক্ষুসংঘকে নিয়ে কুশীনারার দিকে গমন করলেন। সেই সময় মল্লরাজ পুত্র পুক্কুস বাণিজ্য করতে কুশীনারা থেকে পাবার দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি ভগবানকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন পূর্বক বললেন, তাঁর গুরু আলার কালাম এক সময় বৃক্ষমূলে ধ্যান করার সময় ৫০০ শকট তাঁকে স্পর্শ করে চলে গিয়েছিল। তার পরনের চীবর ধুলিপূর্ণ হয়েছিল অথচ তিনি কিছুই জানেন না কিন্তু নিদ্রিত ও ছিলেন না। বুদ্ধের কাছে গুরুর প্রশংসা করে চলে যাবার সময় ভগবান বললেন, হে পুক্কুস, একসময় আমি যখন একটি খড়ের গৃহে ধ্যানমগ্ন ছিলাম তখন অঝোরে বৃষ্টি বর্ষণ এবং প্রচন্ড বেগে বজ্রপাত হচ্ছিল। মাঠে কর্মরত দুই কৃষক ভাই এবং তাদের ৪টি গরু নিহত হল। চারিদিক থেকে লোকজন এসে কলরোল সৃষ্টি করল। একজন লোক খড়ের ঘরে এসে আমাকে অভিবাদন পূর্বক দাড়ালে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম এখানে এত লোকের সমাগম কেন? তখন লোকটি ২ ভাই ও ৪টি গরুর নিহত হওয়ার ঘটনা বর্ণনা করল। লোকটি জানতে চাইলেন, আমি তখন কোথায় ছিলাম? ভগবান বললেন, আমি তো এখানেই ছিলাম। আমি তো কিছু শুনি নাই, দেখি নাই। অথচ আমি নিদ্রিতও ছিলাম না। পুক্কুস বুঝতে পারলেন, তার গুরুর চাইতে ভগবানের ধ্যান অধিক শক্তিশালী ও আশ্চর্য্যজনক। পুক্কুস অত্যন্ত আনন্দিত চিত্তে বুদ্ধের, ধর্মের ও সংঘের শরণ নিলেন। অতঃপর পুক্কুস একজোড়া সুবর্ণ রঙের বস্ত্র বুদ্ধকে দান করলেন। বুদ্ধ একটি আনন্দকে দিয়ে অপরটি পরিধান করলেন। পরিধান করার পর বুদ্ধের দেহবর্ণ অতীব উজ্জ্বল ও পরিশুদ্ধ দেখাচ্ছিল। অসুস্থ অবস্থায়ও ভগবানের দেহবর্ণের হঠাৎ পরিবর্তনের কারণ কি আনন্দ জিজ্ঞাসা করলে বুদ্ধ বললেন, হে আনন্দ যেই রাত্রে তথাগত বোধিজ্ঞান লাভ করেন এবং যেই রাত্রে নির্বাণ ধাতুতে নির্বাপিত ন এই দুই সময়ে তথাগতের শরীর অতীব উজ্জ্বল ও পরিশুদ্ধ হয়।

তথাগতের দেহে ১০টি হস্তীর শক্তি ছিল তিনি এখন ক্লান্ত। পাবা থেকে কুশীনারা মাত্র ১২ মাইল রাস্তা পার হতে বুদ্ধকে ২৫ জায়গায় বিশ্রাম নিতে হয়েছিল। সেই সময়ে তথাগতের পূজার জন্য অন্তরীক্ষ হতে স্বর্গীয় তুর্য নিনাদ হইতেছিল দিব্য চন্দন সমূহ পতিত হচ্ছিল। দশসহস্র চক্রবাল পুষ্পিত হয়ে তরুলতা সমূহ পুষ্পিত হল। যমক শালতরু অকালে পুষ্পিত হয়ে তথাগতের শরীরের উপর পতিত হচ্ছিল। তথাগতের পূজা করতে দিব্য সঙ্গীত সমূহ গীত হচ্ছিল। তখন তথাগত বললেন, হে আনন্দ… তথাগতের পূজার জন্য এতকিছু করা হইলেও ইহা তাঁর প্রতি যথাযথ পূজা বা সম্মান প্রদর্শন নয়।

হে আনন্দ… ভিক্ষু-ভিক্ষুণী, উপাসক-উপাসিকা ধর্মানুধর্ম প্রতিপন্ন ও ধর্মানুচারী হয়ে বিহার করলেই কেবল তথাগতকে পরম পূজায় পূজা করা হয়। এই শিক্ষা নিজেরা গ্রহণ করবে এবং অপরকে উপদেশ দিবে।

পরিনির্বাণ শয্যায় শায়িত অবস্থায় বুদ্ধ আনন্দকে আরও বললেন… হে আনন্দ ৪টি স্থান কুলপুত্রগণের দর্শনীয় ও সংবেগজনীয়।
১) তথাগতের জন্মস্থান, লুম্বিনী উদ্যান,
২) যেই স্থানে বোধিজ্ঞান লাভ করেছেন সেই বুদ্ধগয়ার বোধিমন্ডপ,
৩) যেই স্থানে অনুত্তর ধর্মচক্র প্রবর্তন করেছেন সেই ঋষিপতন মৃগদাব এবং
৪) যেখানে তিনি অনুপাদিশেষ পরিনির্বাণ লাভ করেছেন সেই কুশীনারার উপবর্তন মল্লরাজাদের শালবন। যারা এই সমস্ত পুণ্যক্ষেত্রে ভ্রমণ করেন তারা প্রসন্ন চিত্তে মৃত্যুমুখে পতিত হবে এবং সকলেই মৃত্যুর পর স্বর্গলোকে উৎপন্ন হবে।

কিভাবে তথাগতের শরীর সৎকার করবে? এ প্রসঙ্গে তথাগত আনন্দকে বললেন, হে আনন্দ! চক্রবত্তী রাজার মত প্রথমে নতুন সরুবস্ত্র দ্বারা তথাগতের শরীরকে বেষ্টন করবে। তারপার সুধূনিত কার্পাস দ্বারা, এভাবে একবার সূক্ষ্ম বস্ত্র আবার সুধূনিত কার্পাস দ্বারা ৫০০ যুগবান উভয় বস্ত্র দ্বারা বেষ্টন করতঃ স্বর্ণময় তৈলপাত্রে বিভিন্ন ধরণের সুগন্ধি দ্রব্যাদি দ্বারা পূর্ণ করে চারি মহাপথের মিলন স্থানে স্তুপ রচনা করে ভগবানের দেহ দাহ করতে হবে। যারা এই স্তুপে ফল, বাতি, নানা সুগন্ধযুক্ত চূর্ণ অর্পন করবে ও অভিবাদন করবে, চিত্ত প্রসন্ন করবে তাদের বহুকালের জন্য সুখকর ও হিতকর হবে।

অন্তিম শয্যায় শায়িত অবস্থায় আনন্দ তথাগতকে জিজ্ঞেস করলেন, প্রভু ভগবান! এই রকম একটি ছোট শাখা নগরে পরিনির্বাপিত না হয়ে যদি রাজগৃহে, শ্রাবস্তীতে, সাকেতে, কৌশম্বী অথবা বারাণসীতে পরিনির্বাপিত হতেন তাহলে ঐসকল স্থানের রাজা প্রজারা অত্যন্ত শ্রদ্ধা সহকারে আপনার দেহ পূজা করতেন যেহেতু তাঁরা বুদ্ধের প্রতি প্রসন্ন। তখন বুদ্ধ বললেন, এরূপ বলিওনা আনন্দ! এই শাখানগর অতীতে অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী নগরী ছিল। এখানে আমি অতীতে অনেকবার জন্মগ্রহণ করেছিলাম। এই বলে তিনি অতীত কাহিনী সম্বলিত মহাসুদর্শন সূত্র দেশনা করেন। উল্লেখ্য, বুদ্ধ এখানে পরিনির্বাপিত না হলে সুভদ্র পরিব্রাজক বুদ্ধের দর্শন পেতেন না এবং অরহত হয়ে নির্বাণ দর্শন করতে পারতেন না। পরিনির্বাণের পর ভগবানের অস্থি ধাতু অর্থাৎ দেহাবশেষ নিয়ে সমবেত ৮ জন রাজার মধ্যে যেই মহাযুদ্ধ শুরু হবার উপক্রম হয়েছিল, দ্রোণ ব্রাক্ষ্মণ ব্যতীত সেই যুদ্ধ কেহ থামাতে পারতেন না, মহাসূদর্শন সূত্রও দেশনা করা হতো না। তথাগত এ সমস্ত কারণ চিন্তা করেই কুশীনারায় নির্বাপিত হবার জন্য এসেছিলেন বলে অরহতগণ প্রকাশ করেছেন।

ভগবান আনন্দকে বলেছেন, হে আনন্দ! তোমাদের মনে হতে পারে ভগবানের উপদেশ বোধহয় শেষ হল যেহেতু ভগবান নেই। আমি যেই ধর্ম বিনয় দেশিত ও প্রজ্ঞাপ্ত করেছি সেই ধর্ম ও বিনয় আমার অবর্তমানে তোমাদের দিক নির্দেশনা ও নেতৃত্ব দিবে। অতঃপর ভগবান ভিক্ষুগণকে সম্বোধন করে বললেন, তোমাদের মধ্যে যদি বুদ্ধ, ধর্ম সংঘ মার্গ বা প্রতিপদা কোন সন্দেহ বা দ্বিধা থাকলে আমাকে জিজ্ঞাসা কর, পরে যাতে অনুতাপ করতে না হয়। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বার বললেও সবাই নীরব রইলেন। বুদ্ধ বললেন, হে আনন্দ, এই পরিনির্বাণ স্থানে যে ৫০০ জন ভিক্ষু উপস্থিত আছেন সেখানে যে সবচেয়ে কনিষ্ঠ ভিক্ষু সেও স্রোতাপন্ন। অন্য সকলে ত্রিবিদ্যা ও ষড়ভিজ্ঞা সম্পন্ন। আনন্দই একমাত্র স্রোতাপন্ন। কাজেই বুদ্ধ, ধর্ম সংঘ মার্গ বা প্রতিপদায় কারও কোন সন্দেহ থাকার কথা নয়। অতঃপর বুদ্ধ শেষ বাক্য উচ্চারণ করলেন, “সংষ্কার সমূহ অনিত্য ও ক্ষয়শীল, অপ্রমাদের সহিত সমস্ত কার্য্য সম্পাদন করবে।” ইহাই তথাগতের শেষ উক্তি।

অতঃপর ভগবান প্রথম ধ্যান মগ্ন হলেন। প্রথম ধ্যান সমাপ্ত করে দ্বিতীয় ধ্যান, দ্বিতীয় ধ্যান হতে উত্তীর্ণ হয়ে তৃতীয় ধ্যানে মগ্ন হলেন। তৃতীয় ধ্যান হতে চতুর্থ ধ্যানে এবং সেখানে থেকে আকাশানন্তায়তন সম্প্রাপ্ত হলেন। আকাশানন্তায়তন স্তর হতে বিজ্ঞানায়তন। সেখান থেকে অকিঞ্চনায়তন অতঃপর নৈবসংজ্ঞানাসাজ্ঞায়তন সম্পাপ্ত হলেন। নৈবসংজ্ঞা নাসঙ্গায়তন হতে উত্তীর্ণ হয়ে সজ্হাবেদহিত নিরোধ স্তর সম্প্রাপ্ত হলেন। সেই সমেয় অরহত অনুরুদ্ধ, তথাগতের সঙ্গে সঙ্গে সেই ধ্যান সমূহ অবলম্বনে তৎপর ছিলেন। তাই আনন্দ স্থবির যখন জানতে চাইলেন তথাগত পরিনির্বাপিত হয়েছেন কিনা? অনুরুদ্ধ স্থবির বললেন, তথাগতের কালক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। অতঃপর তথাগত নিরোধ সমাপত্তি যথানিয়মে সমাপ্ত করে পুনঃ প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ ধ্যানে সমাপ্ত করে ধ্যানাঙ্গসমূহ প্রত্যবেক্ষণ করতঃ অন্তিম অব্যাকৃত দুঃখ সত্য ভবাঙ্গ চিত্তের নিরোধ দ্বারা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব ত্রিলোক পূজ্য গৌতম বুদ্ধ শুভ বৈশাখী তিথিতে মল্ল রাজাদের শালবনে মহাপরিনির্বাণে নির্বাপিত হলেন।

লেখকঃ কলাম লেখক, প্রাবন্ধিক।

D.B. Newsroom editor.

সাম্প্রতিক

রামু আওয়ামীলীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক অনুপম বড়ুয়া লুলু পরলোকে ॥ এমপি কমল’র শোক

Thursday, April 19th, 2018

রামুতে ২দিন ব্যাপী ৩২ তম ঐতিহাসিক ইসলামী মহাসম্মেলন ২০ ও ২১ এপ্রিল

Thursday, April 19th, 2018

উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্যাম ব্রাউন

Thursday, April 19th, 2018

পূর্ব পোকখালী সপ্রাবিতে মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত

Thursday, April 19th, 2018

ঈদগাঁওর সমাজসেবক মোস্তাক আর নেই

Thursday, April 19th, 2018

প্রজন্ম বঙ্গবন্ধু’র সম্মেলনে যোগ দিতে সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি সংযুক্ত আরব আমিরাত গেছেন

Thursday, April 19th, 2018

রামুর উত্তর মিঠাছড়ি প্রজ্ঞামিত্র বন বিহারে স্বর্গপুরী উৎসব শুক্রবার

Thursday, April 19th, 2018

আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় স্ত্রীকে অন্ধ করে দিল স্বামী

Wednesday, April 18th, 2018

ইসলামাবাদের দিনমজুর হাতির আক্রমণে নিহত

Wednesday, April 18th, 2018

রামুতে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপন

Wednesday, April 18th, 2018

রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় সরকারিকরণে খিজারী উৎসব ২৮ এপ্রিল

Wednesday, April 18th, 2018

আইপিএল নিয়ে জুয়ায় জড়িয়ে পড়ছে উখিয়ার যুবকরা

Wednesday, April 18th, 2018

ঈদগাঁওতে বর্ষবরণ উপলক্ষে সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

Monday, April 16th, 2018

মাওলানা আব্দুচ্ছালাম কুদছী রহ. এর কর্মময় জীবন ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের প্রেরণা

Monday, April 16th, 2018

ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে সড়ক দূর্ঘটনায় হতাহত ২

Sunday, April 15th, 2018