জাতির উদ্দেশে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পূর্ণ বিবরণ

Friday, January 12th, 2018

Sheikh_Hasina_1220180112200353

নিউজকক্স ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ শুক্রবার সন্ধায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। তাঁর এ ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন, বিটিভি ওয়ার্ল্ড ও বাংলাদেশ বেতারের পাশাপাশি সবক’টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একযোগে সরাসরি সম্প্রচার করে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয় লাভের পর একই বছরের ১২ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে।
ভাষণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ত্রিশ লাখ শহিদ ও নির্যাতিত দুই লাখ মা-বোন, মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের সহযোগিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণে বলেন, আপনারা যে বিশ্বাস ও আস্থা রেখে আমাকে তৃতীয় বারের মত প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছিলেন,আমি ও আমার সরকার প্রাণপণ চেষ্টা করেছি আপনাদের মর্যাদা রক্ষা করার জন্য। বিগত চার বছরে আমার সরকারের সফলতা ও ব্যর্থতা আপনারাই বিচার করবেন। তবে আমি ও আমার সরকার আপনাদের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। নিম্নে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পূর্ণাঙ্গ বিবরন তুলে ধরা হলো-
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রিয় দেশবাসী,
আসসালামু আলাইকুম।
২০১৪ সালে আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আজকের এই দিনে আমি তৃতীয়বারের মত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলাম। আজ বছরপূর্তিতে আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে হাজির হয়েছি। আমার উপর যে বিশ্বাস ও আস্থা রেখেছিলেন, আমি প্রাণপণ চেষ্টা করেছি আপনাদের মর্যাদা রক্ষা করার। কতটুকু সফল বা ব্যর্থ হয়েছি সে বিচার আপনারাই করবেন।
আমি শুধু এটুকু বলতে চাই, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দেশ স্বাধীন করেছেন একটি আদর্শ ও চেতনা ধারণ করে। বাংলাদেশের মানুষকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অশিক্ষার হাত থেকে মুক্ত করে একটি সুন্দর জীবন নিশ্চিত করার প্রত্যয় নিয়ে স্বাধীনতার সংগ্রাম করেছিলেন। ২৪ বছরের সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ তিনি প্রতিষ্ঠা করে গেছেন।
তাঁর সেই আকাক্সক্ষা পূরণ করাই আমার একমাত্র ব্রত। ‘‘বাংলার মানুষ যেন অন্ন পায়, বস্ত্র পায়, উন্নত জীবনের অধিকারী হয়’’ – জাতির পিতার এই উক্তি সর্বদা আমার হৃদয়ে অনুরণিত হয়। তাই সর্বদা আমার একটাই প্রচেষ্টা- কীভাবে বাংলাদেশের মানুষের জীবনকে অর্থবহ করব, স্বচ্ছল ও সুন্দর করে গড়ে তুলব।
আমি আজকের দিনে শ্রদ্ধা জানাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি। শ্রদ্ধা জানাই জাতীয় চার নেতার প্রতি; ৩০ লাখ শহিদ ও দুই লাখ নির্যাতিত মা-বোনের প্রতি। মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের সহযোগিতাকারীদের প্রতি জানাই আমার সালাম।
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বাঙালি জাতির জন্য একটি কলঙ্কময় দিন। মাত্র সাড়ে তিন বছর জাতির পিতা সময় পেয়েছিলেন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার জন্য। একটা প্রদেশকে রাষ্ট্রে উন্নীত করে যুদ্ধবিধ্বস্ত-ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশটিকে যখন গড়ে তুলছিলেন এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিচ্ছিলেন, তখনই চরম আঘাত এলো।
ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে আমি ও রেহানা হারালাম প্রাণপ্রিয় মা, বাবা, তিন ভাই, ভ্রাতৃবধুদের এবং অন্যান্য আত্মীয় স্বজনসহ ১৮জন সদস্যকে।
বিদেশের মাটিতে ছিলাম বলে দুই বোন বেঁচে যাই, কিন্তু দেশে ফিরতে পারিনি আমরা। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী শাসক আমাদের দেশে আসতে দেয়নি। সর্বহারা নিঃস্ব রিক্ত হয়ে স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে ৬টি বছর বিদেশে কাটাতে হয়েছিল।
১৯৮১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যখন আমাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করে, তখন সকল বাধা অতিক্রম করে প্রিয় দেশবাসী আপনাদের সমর্থনে আমি দেশে ফিরতে সক্ষম হই। রিফিউজি হিসেবে আমাদের অমানবিক জীবনের অবসান ঘটে।
দেশে ফিরে একদিকে যেমন দলকে সংগঠিত করার কাজে মনোনিবেশ করি, অপরদিকে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের ক্ষমতা ক্যান্টনমেন্ট থেকে উদ্ধার করে জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতে চেষ্টা চালাই।
চারণের বেশে সমগ্র বাংলাদেশের গ্রামেগঞ্জে ঘুরে বেড়িয়েছি। আপনাদের জীবনমান উন্নয়নে কী কী কাজ করতে হবে তারও পরিকল্পনা তৈরি করি।
স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে যখন আপনাদের কাছে গিয়েছি, পেয়েছি অপার স্নেহ, ভালবাসা, পেয়েছি আত্মবিশ্বাস। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে, বন্ধুর পথ অতিক্রম করে ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আমরা সরকার গঠন করে দেশবাসীর সেবা করার সুযোগ পাই।
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের পর এই প্রথম আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের সুযোগ পেল। বাংলাদেশের মানুষ সরকারি সেবা পেল। আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নসহ ব্যাপক উন্নতির পথে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। অপার সম্ভাবনা দৃশ্যমান হতে থাকল। বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা, প্রতিবন্ধীদের সেবাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন জনজীবনে আস্থা সৃষ্টি করেছিল।
কিন্তু ২০০১ সালের নির্বাচনে গভীর চক্রান্ত করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হল না। এরপর দেশবাসী দেখেছেন রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন; অর্থ লুটপাট, হাওয়া ভবনের দৌরাত্ম্য। জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, বাংলা ভাইয়ের উত্থান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দুইজন সংসদ সদস্যসহ হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা, সংখ্যালঘুদের নির্যাতন ও হত্যা, জমি, ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল, চাঁদাবাজী, মানি লন্ডারিং, দুর্নীতি। ৬৩ জেলায় একসঙ্গে ৫০০ জায়গায় বোমা হামলা হয়।
২০০৪ সালে ২১শে আগস্ট আওয়ামী লীগের র‌্যালিতে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা করে ২৪ নেতাকর্মী হত্যা, ব্রিটিশ হাই কমিশনারের উপর গ্রেনেড হামলা, দেশব্যাপী নারীদের উপর পাশবিক অত্যাচার- সমগ্র দেশ যেন জলন্ত অগ্নিকু-ে পরিণত হয়েছিল। দেশবাসী প্রতিনিয়ত সে যন্ত্রণায় দাহ হচ্ছিলেন।
এমনি পরিস্থিতিতে জারি করা হল জরুরি অবস্থা। ৭ বছর দুঃসহ যাতনা ভোগ করার পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে দেশবাসী আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিলেন। আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি জনগণের সার্বিক উন্নয়নের জন্য।
২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি-জামাত জোট সারাদেশে নির্মম সন্ত্রাসী কর্মকা- চালিয়েছিল। নির্বাচনের দিন ৫৮২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দেয়। হত্যা করে প্রিসাইডিং অফিসারসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।
২০১৩ থেকে ২০১৫-এই তিন বছরে বিএনপি-জামাত সন্ত্রাসীদের হাতে প্রায় ৫০০ নিরীহ মানুষ নিহত এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হন। প্রায় সাড়ে ৩ হাজার গাড়ি, ২৯টি রেলগাড়ি ও ৯টি লঞ্চ পোড়ানো হয়। ৭০টি সরকারি অফিস ও স্থাপনা ভাংচুর এবং ৬টি ভূমি অফিসে আগুন দেওয়া হয়। মসজিদে আগুন দিয়ে পোড়ানো হয় পবিত্র কোরআন শরীফ। তাদের জিঘাংসার হাত থেকে রেহাই পায়নি রাস্তার গাছ এবং নিরীহ গবাদিপশু।
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট থেকে ১৯৯৬ সালের ২৩শে জুন পর্যন্ত ২১ বছর এবং ২০০১ সালের ১লা অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ৬ই জানুয়ারি পর্যন্ত ৭ বছর – এই ২৮ বছর বাংলাদেশের জনগণ বঞ্চিত থেকেছে। যারা ক্ষমতা দখল করেছে তারা নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত ছিল। জনগণের কল্যাণে তারা কোন ভূমিকা রাখেনি। বরং আমরা জনকল্যাণে যেসব কাজ হাতে নিয়েছিলাম তারা তা বন্ধ করে দেয়।
২০০৯ সালে সরকার গঠন করে আশু করণীয়, মধ্য-মেয়াদি ও দীর্ঘ-মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, গ্রহণ করেছি দশ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিৎ পরিকল্পনা।
প্রিয় দেশবাসী,
আমরা দিন বদলের সনদ ঘোষণা দিয়েছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলছি। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপনাদের জীবনমান সহজ করা এবং উন্নত করার উদ্যোগ নিয়েছি। আপনারা আজ সেসব সেবা পাচ্ছেন।
দেশে ১৩ কোটি মোবাইল সীম ব্যবহৃত হচ্ছে। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ৮ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল স্থাপন করে ব্যান্ডওয়াইথ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে জনগণ ২০০ ধরনের সেবা পাচ্ছেন। সকল ধরনের সরকারি ফরমস, জমির পর্চা, পাবলিক পরীক্ষার ফল, পাসপোর্ট-ভিসা সম্পর্কিত তথ্য, কৃষিতথ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইনগত ও চাকুরির তথ্য, নাগরিকত্ব সনদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির প্রক্রিয়া, ক্রয়-বিক্রয়সহ বিভিন্ন বিল প্রদানের সুবিধা জনগণ পাচ্ছেন। ঘরে বসে আউটসোর্সিং-এর কাজ করে অনেক তরুণ-তরণী স্বাবলম্বী হয়েছে। বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে প্রবাসীরা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন।
প্রিয় দেশবাসী,
২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পেরেছি বলেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পেরেছি। ৯ বছর একটানা জনসেবার সুযোগ পেয়েছি বলেই বাংলাদেশ উন্নত হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী মন্দা থাকা সত্বেও আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছি। জনগণ এর সুফল ভোগ করছেন।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা পেয়েছে। মাথাপিছু আয় ২০০৫ সালের ৫৪৩ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৬১০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২২ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে।
২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিডিপি’র আকার ছিল ৪ লাখ ৮২ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ১৯ লাখ ৭৫ হাজার ৮১৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জিডিপি প্রবৃদ্ধির গড় হার ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক দুই-আট শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
১৯৯১-৯৬ সময়ে বিএনপি আমলে মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ শতাংশ। ২০০১-এ আওয়ামী লীগ যখন দায়িত্ব ছাড়ে তখন মূল্যস্ফীতি ছিল মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বিএনপি’র সময় মূল্যস্ফীতি আবার ৭ দশমিক এক-ছয় শতাংশে পৌঁছে। ২০০৮-০৯ বছরে মূল্যষ্ফীতি দাঁড়ায় ১২ দশমিক ৩ শতাংশে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে মুল্যস্ফীতি ৫ দশমিক আট-চার শতাংশে নেমে আসে।
২০০৫-০৬ অর্থবছরে বৈদেশিক বিনিয়োগ ছিল শুন্য দশমিক ৭৪৪ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বৈদেশিক বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৬১ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে বাজেটের আকার প্রায় ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। সে সময় এডিপি’র আকার ছিল ১৯ হাজার কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এডিপি’র আকার ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০০৫-০৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ৩৪ দশমিক আট-পাঁচ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ছিল ৩ দশমিক চার-আট বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ৩৩ দশমিক চার-চার বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
২০০৫ সালে ২ লাখ ৭০ হাজার মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থান হয়। ২০১৭ সালে বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে ১০ লাখ ৮ হাজার ১৩০ জনের। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স ২০০৫-০৬ বছরে ছিল ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রেমিটেন্স এসেছে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বিগত ৯ বছরে ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছে। ১ হাজার ৪৫৮টি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি আমরা। ৩৬৫টি কলেজ সরকারিকরণ করা হয়েছে। ৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুম স্থাপন করেছি।
বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২টি বই বিতরণ করা হয়েছে। স্বাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা গ্রাম পর্যায়ে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সারাদেশে সাড়ে ১৮ হাজার কম্যুনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন করেছি।
৩০ প্রকার ঔষধ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা চালু করা হয়েছে।
১১৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১৬ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। শতকরা ৮৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছেন। ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হবে।
আমরা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। খাদ্য উৎপাদন ৪ কোটি মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে আমাদের অবস্থান ৪র্থ। মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৭২ বছর।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকর করা হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে। বিডিআর হত্যার বিচার হয়েছে। আমরা সফলতার সঙ্গে জঙ্গিবাদ দমন করেছি। জনসচেতনতা সৃষ্টি করে এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছে। তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।
সরকারি কর্মচারিদের বেতনভাতা ১২৩ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছি। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। সারাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলে দেশি-বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে কেউ বেকার এবং দরিদ্র থাকবে না।
বাংলাদেশকে আমরা উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য আমরা বেশ কয়েকটি মেগা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। পদ্মা সেতুর কাজ অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকায় মেট্টোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। সমগ্র বাংলাদেশকে রেল সংযোগের আওতায় আনা হচ্ছে।
চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ করা হচ্ছে। ঈশ্বরদীর রূপপুরে দেশের প্রথম পরমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। খুব শিগগিরই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন করা হবে। পটুয়াখালীতে পায়রা বন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে। কক্সবাজারের মাতারবাড়ি এবং রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে।
গ্রিডবিহীন এলাকায় ৪৫ লাখ সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। সৌর বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের কাজ শুরু হয়েছে।
গ্যাসের সমস্যা দূর করতে এলএনজি আমদানি শুরু হচ্ছে। রান্নার জন্য দেশে এলপিজি গ্যাস উৎপাদনের কাজ শুরু হয়েছে।
আমরা সারাদেশে সড়ক, মহাসড়ক, সেতু, কালভার্ট নির্মাণসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছি। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ৪-লেনে উন্নীত করা হয়েছে। চন্দ্রা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার-লেনে উন্নয়নের কাজ চলছে।
বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে সারাদেশে ব্যাপকহারে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ভারী শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। আমরা বেশ কয়েকটি বন্ধ কারখানা চালু করেছি। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র বিরোধ নিষ্পত্তির ফলে সমুদ্র সম্পদ আহরণ, গবেষণা ও উন্নয়নে ব্লু ইকোনামি কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে।
সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা বহুমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। হতদরিদ্র ৩৫ লাখ মানুষকে বয়স্কভাতা দেওয়া হচ্ছে। বিধবা, স্বামী পরিতক্তা, দুস্থ্য নারী ভাতা উপকারভোগীর সংখ্যা ১২ লাখ ৬৫ হাজার। ৮ লাখ ২৫ হাজার জন প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। ৮০ হাজার প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী শিক্ষা ভাতা পাচ্ছে।
সারাদেশে ২ কোটি ২৮ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৭ জন কৃষকের মধ্যে কৃষি উপকরণ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। প্রায় ৯৮ লাখ কৃষক ১০ টাকায় ব্যাংক একাউন্ট খুলে ভর্তুকির টাকা পাচ্ছেন। প্রাইমারি থেকে মাস্টারস ডিগ্রি ও পিএইচডি পর্যন্ত ২ কোটি ৩ লাখ শিক্ষার্থী বৃত্তি ও উপবৃত্তি পাচ্ছে। ১ কোটি ৩০ লাখ প্রাইমারি শিক্ষার্থীর মায়ের কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বৃত্তির টাকা পৌঁছে যাচ্ছে। শিক্ষা খাতে মোট উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৭ হাজার।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জাতির পিতার ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বিশ্ব প্রামাণ্য দলিলে স্থান পাওয়ায় বাংলাদেশ সম্মানিত হয়েছে বিশ্বসভায়।
সারাবিশ্ব আজ বাংলাদেশকে সম্মানের চোখে দেখে। যে বাংলাদেশকে একসময় করুণার চোখে দেখত, সাহায্যের জন্য হাত বাড়ানোয় করুণার পাত্র মনে করত; আজ সে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্বসভায় সম্মানিত।
আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রণীত প্রতিরক্ষা নীতিমালা ১৯৭৪-এর আলোকে ফোর্সেস গোল ২০৩০ প্রণয়ন করে বাস্তবায়ন করছি। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রশংসা অর্জন করেছে। নারীর ক্ষমতায়ন ও লিঙ্গ বৈষম্য নিরসনে আমাদের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে। বাংলাদেশ জেন্ডার সংশ্লিষ্ট এমডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশ্বে ৫ম স্থান অর্জন করেছে।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে সাফল্য অর্জন করে চলেছে। অতি সম্প্রতি আমাদের মেয়েরা অনুর্ধ-১৫ সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এরআগে আমাদের মেয়েরা এএফসি অনুর্ধ্ব-১৪ ফুটবলে আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বিশ্বকাপ ক্রিকেটে প্রথমবারের মত বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ সফলতা দেখিয়ে যাচ্ছে।
‘‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়’’- জাতির পিতার এই আপ্তবাক্য আমাদের পররাষ্ট্র নীতির মূল প্রতিপাদ্য। এই নীতি অনুসরণ করে আজ প্রতিবেশি দেশগুলিসহ সকলের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
অত্যাচার এবং নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে এসেছে। মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আমরা আশ্রয় দিয়েছি। তাদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে রিলিফ বিতরণ করা হচ্ছে এবং চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।
প্রিয় দেশবাসী,
সংবিধান অনুযায়ী ২০১৮ সালের শেষদিকে একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কীভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তা আমাদের সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা আছে। সংবধিান অনুযায়ী নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। সেই সরকার সর্বোতভাবে নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তা দিয়ে যাবে।
মহামান্য রাষ্ট্রপতি অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। এই কমিশন ইতোমধ্যে ২টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনসহ স্থানীয় পর্যায়ের বেশ কিছু নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে।
আমি আশা করি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সকল দল আগামী সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিবেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রাখতে সহায়তা করবেন।
কোন কোন মহল আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা করতে পারে। আপনাদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। জনগণ অশান্তি চান না। নির্বাচন বয়কট করে আন্দোলনের নামে জনগণের জানমালের ক্ষতি করবেন- এটা আর এদেশের জনগণ মেনে নিবেন না।
প্রিয় দেশবাসী,
আপনারাই সকল ক্ষমতার মালিক। কাজেই লক্ষ্য আপনাদেরই ঠিক করতে হবে- আপনারা কী চান! আপনারা কি দেশকে সামনে এগিয়ে যাওয়া দেখতে চান, না বাংলাদেশ আবার পিছনের দিকে চলুক তাই দেখতে চান। একবার ভাবুন তো মাত্র ১০ বছর আগে দেশের অবস্থানটা কোথায় ছিল?
আপনারা কি চান না আপনার সন্তান সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে স্বাবলম্বী হোক? আপনারা কি চান না প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে যাক! আপনারা কি চান না প্রতিটি গ্রামের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হোক! মানুষ দু’বেলা পেট পুরে খেতে পাক! শান্তিতে জীবনযাপন করুক!
প্রিয় দেশবাসী,
স্বাধীনতার ৪৭ বছর অতিক্রান্ত হতে চলেছে। আমরা আর দরিদ্র হিসেবে পরিচিত হতে চাই না। আমরা বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে বাঁচতে চাই। এসব যদি আপনাদের চাওয়া হয়, তাহলে আমরা সব সময়ই আপনাদের পাশে আছি।
কারণ, আমরাই লক্ষ্য স্থির করেছি যে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত করব। শুধু লক্ষ্য স্থির করেই কিন্তু আমরা বসে নেই। সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য আমরা প্রয়োজনীয় কর্মসূচি প্রণয়ন করে সেগুলো বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।
আমরা অতীতকে আঁকড়ে ধরে থাকতে চাই না; তবে অতীতকে ভুলেও যাব না। অতীতের সফলতা-ব্যর্থতার মূল্যায়ন করে, ভুল-ত্রুটি শুধরে নিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে যাব।
আমরা উন্নয়নের যে মহাসড়কে যাত্রা শুরু করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি, সেখান থেকে আর পিছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই। বর্তমান এবং ভবিষ্যত প্রজন্ম সমৃদ্ধি ও প্রগতির পথে সকল বাধা দূর করার দায়িত্ব গ্রহণ করবে।
আসুন, দলমত নির্বিশেষে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত, সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।
বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আগামী প্রজন্ম পাবে সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা যেন ব্যাহত না হয়, এ বিষয়ে সচেতন হয়ে দেশবাসীকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবার আহ্বান জানাচ্ছি।
আমরা বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে চলব। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলব। ইনশাআল্লাহ।
সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। মহান রাব্বুল আল-আমিন আমাদের সকলের সহায় হোন।
খোদা হাফেজ।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

(বাসস)

সাম্প্রতিক

রামুতে যুবলীগের ৪৬ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বক্তারা: কক্সবাজার-৩ আসনে নৌকার বিজয়ে এমপি কমলের বিকল্প নাই

Monday, November 12th, 2018

ফলোআপ: উখিয়ায় কলেজ ছাত্রী শারমিনকে নৃশংস ভাবে হত্যা করেছে সন্ত্রাসী নুরুল কবির : মায়ের দাবী 

Monday, November 12th, 2018

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পরিবেশ রাখাইনে এখনো তৈরি হয়নি-যুক্তরাষ্ট্রের উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিচার্ড অলব্রাইট 

Monday, November 12th, 2018

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : কক্সবাজার-৩, আওয়ামীলীগের মনোনয়ন নিয়েছেন আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি

Saturday, November 10th, 2018

উখিয়ায় জেএসসি পরিক্ষা হলরুমে দায়িত্বরত সহকারী শিক্ষককে জরিমানা

Saturday, November 10th, 2018

উখিয়ায় কলেজ ছাত্রীকে গলা কেটে হত্যা

Saturday, November 10th, 2018

“২য় বিশ্ব শান্তি নীতি প্রতিযোগিতা – বাংলাদেশ ২০১৮” অনুষ্ঠিত হবে ২৩ নভেম্বর, শুক্রবার

Saturday, November 10th, 2018

রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারের দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসবে বাংলাদেশ সরকারের সমৃদ্ধি ও বিশ্ব শান্তি কামনা

Friday, November 9th, 2018

উখিয়ায় অগ্নিকান্ডে ১৮ টি দোকান পুড়ে ছাই, আহত ২.

Thursday, November 8th, 2018

বিজিবি’র রামু সদর দপ্তর ও দু’টি নতুন ব্যাটালিয়নের পতাকা উত্তোলন প্রধানমন্ত্রীর

Thursday, November 8th, 2018

উখিয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিভিন্ন অপরাধে ৪ জনকে সাজা ও জরিমানা  

Wednesday, November 7th, 2018

কক্সবাজারে ইজতেমায় দোয়া চাইলেন আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি

Wednesday, November 7th, 2018

প্রধানমন্ত্রী সংলাপ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন আগামীকাল

Wednesday, November 7th, 2018

পদত্যাগপত্র জমা দিলেন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীরা

Tuesday, November 6th, 2018

জনগণ স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না : প্রধানমন্ত্রী

Tuesday, November 6th, 2018