অর্থায়ন নিশ্চিত, দরপত্র মূল্যায়নের পর কাজ শুরু

Thursday, February 16th, 2017

16-120170216095211

দোহাজারী-গুনদুম ডুয়েল গেজ সিঙ্গেল লাইন প্রকল্পের প্রথম ধাপের কাজ শিগগির শুরু করতে চায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়ন নিশ্চিত হয়েছে। চলতি মাসে ঋণ চুক্তি হতে পারে। ২০২২ সালের মধ্যে রেলপথটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রকল্পের নকশাও চূড়ান্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, প্রকল্পের ১০০ কিলোমিটার রেললাইন তৈরি করতে দুটি ভাগে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। টেন্ডারে পাঁচটি দেশের ৯টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। বর্তমানে দরপত্র মূল্যায়নের কাজ চলছে। মূল্যায়নের পর ঠিকাদার নিয়োগ হবে। এরপরই শুরু হবে প্রকল্পের কাজ।

সূত্র জানায়, দোহাজারী থেকে কক্সবাজার রামু পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ করতে দুট লটে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। প্রথম লটে পাঁচটি এবং দ্বিতীয় লটে চারটি টেন্ডার জমা পড়েছে। প্রথম লটে কোরিয়া-চায়না জেভি, বাংলাদেশ-চায়না জেভি, ভারত, স্পেন ও চায়না টেন্ডারে অংশ নেয়। দ্বিতীয় লটে অংশ নিয়েছে কোরিয়া-চায়না জেভি, বাংলাদেশ-চায়না জেভি, স্পেন ও চায়না।

জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক মো. মফিজুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, কক্সবাজার-গুনদুম রেললাইন প্রকল্প সরকারের ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পের অন্যতম।  কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণে এডিবির অর্থায়ন নিশ্চিত।

দরপত্রের টেকনিক্যাল মূল্যায়ন চলছে। মূল্যায়ন শেষে আবারও এডিবিতে পাঠানো হবে। সেখান থেকে অনুমতি পেলে মূল্যের প্রস্তাব খুলে ফের এডিবিতে পাঠানো হবে। তারপর মন্ত্রণালয় হয়ে চূড়ান্ত করতে কেবিনেটে যাবে।

ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কক্সবাজার জেলায় ৩ নম্বর নোটিশ জারি করা হয়েছে। চট্টগ্রামের চন্দনাইশে জারি হয়েছে। বাকি উপজেলাগুলোতে শিগগির জারি করা হবে।

প্রকল্পের ডিপিপি সূত্রে জানা গেছে, ১২৯ দশমিক ৫৮৩ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৩৪৪ দশমিক ৭৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ দশমিক ৮৩১ কিলোমিটার সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মাণ করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্মাণ হবে রামু থেকে মায়ানমারের গুনদুম পর্যন্ত ২৮ দশমিক ৭৫২ কিলোমিটার রেলপথ।

দোহাজারী স্টেশন

প্রথম পর্যায়ের ট্র্যাক নির্মাণে এডিবি প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা অর্থায়ন নিশ্চিত করলেও দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রয়োজনীয় প্রায় ১ হাজার ১১৫ কোটি টাকার অর্থায়ন এখনো নিশ্চিত হয়নি। এছাড়া প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ ৪ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা ব্যয় করবে সরকার।

দোহাজারী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, হারবাং, চকরিয়া, ডুলাহাজরা, ইসলামাবাদ, রামু, কক্সবাজারসহ নয়টি নতুন স্টেশন নির্মাণ এবং প্রথম পর্যায়ের কাজের জন্য সর্বমোট ১ হাজার ৩৯১ একর ভূমি অধিগ্রহণ কাজ শেষ করেছে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন।

প্রকল্পের প্রথম ধাপে দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ দশমিক ৮৩১ কিলোমিটার মেইন লাইনের পাশাপাশি ৩৯ দশমিক ২০৫ কিলোমিটার লুপ লাইন নির্মাণ হবে। এতে ৩৯টি মেজর ব্রিজ, ১৪৫টি মাইনর ব্রিজ বা কালভার্ট, বিভিন্ন শ্রেণির ৯৬টি লেভেল ক্রসিং ও একটি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হবে। প্রকল্প এলাকায় বন্য হাতির চলাচল থাকায় বন্য প্রাণীর চলাচলে ওভারপাস নির্মাণ করা হবে। রাখা হয়েছে থারমাল ইমেজিং ক্যামেরা প্রযুক্তি।

প্রকল্প পরিচালক জানান, দ্বিতীয় পর্যায়ের ২৮ দশমিক ৭৫২ কিলোমিটার মেইন লাইনের পাশাপাশি ৩ দশমিক ৯১৬ কিলোমিটার লুপ ও সাইডিং ডুয়েল গেজ লাইন নির্মাণে ১৩টি মেজর ব্রিজ, ৪৫টি মাইনর কালভার্ট, বিভিন্ন শ্রেণির ২২টি লেভেল ক্রসিং ও একটি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হবে। উখিয়া ও গুনদুমে নতুন স্টেশন এবং অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের জন্য ৩৫০ একর ভূমি অধিগ্রহণের কাজ প্রক্রিয়াধীন।

জানা গেছে, ১৮৯০ সালে তৎকালীন বার্মা রেলওয়ে চট্টগ্রাম থেকে রামু-কক্সবাজার হয়ে মায়ানমার পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণে সার্ভে করে। তার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯০৮-১৯০৯ সালে বার্মা রেলওয়ে বিশদ সার্ভে পরিচালনা করে। চট্টগ্রামের সঙ্গে আকিয়াবের (মায়ানমার) রেল যোগাযোগ স্থাপনে দোহাজারী থেকে রামু হয়ে আকিয়াব পর্যন্ত ১৯১৭-১৯১৯ সালে পুনরায় সার্ভে করা হয়। সেই অনুসারেই চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত মিটার গেজ রেললাইন স্থাপন করা হয়। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে কক্সবাজার থেকে রামু পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ সম্ভব হয়নি।

১৯৫৮ সালে তৎকালীন পূর্ব বাংলা রেলওয়ে চট্টগ্রামের দক্ষিণ দিক থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের জন্য সার্ভে করে। ১৯৭১ সালে জাপান রেলওয়ে টেকনিক্যাল সার্ভিস (জেআরটিএস) রেলওয়ে লাইনটির ট্রাফিক সম্ভাবনা যাচাইয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চালায়। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ১৯৭৬-১৯৭৭ সালে জাপানের জেআরটিএস ডাটা সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করে। ১৯৯৫ সালে ইকনোমিক অ্যান্ড সোস্যাল কমিশন ফর এশিয়া এন্ড দ্যা প্যাসিফিক (এসকাপ) কতৃক ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে (টার) সাউদার্ন কোরিডোর-১ উপর প্রাথমিক স্টাডি পরিচালনা করা হয়।

এরপর ২০১৩ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০১০ সালের ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু অর্থায়ন জটিলতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ২০১৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত একনেক সভায় সিঙ্গেল লাইন ট্র্যাককে মিটার গেজের পরিবর্তে ডুয়েল গেজ ট্র্যাকে নির্মাণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। সূত্রঃ বাংলানিউজ।

 

সাম্প্রতিক

রামু আওয়ামীলীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক অনুপম বড়ুয়া লুলু পরলোকে ॥ এমপি কমল’র শোক

Thursday, April 19th, 2018

রামুতে ২দিন ব্যাপী ৩২ তম ঐতিহাসিক ইসলামী মহাসম্মেলন ২০ ও ২১ এপ্রিল

Thursday, April 19th, 2018

উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্যাম ব্রাউন

Thursday, April 19th, 2018

পূর্ব পোকখালী সপ্রাবিতে মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত

Thursday, April 19th, 2018

ঈদগাঁওর সমাজসেবক মোস্তাক আর নেই

Thursday, April 19th, 2018

প্রজন্ম বঙ্গবন্ধু’র সম্মেলনে যোগ দিতে সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি সংযুক্ত আরব আমিরাত গেছেন

Thursday, April 19th, 2018

রামুর উত্তর মিঠাছড়ি প্রজ্ঞামিত্র বন বিহারে স্বর্গপুরী উৎসব শুক্রবার

Thursday, April 19th, 2018

আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় স্ত্রীকে অন্ধ করে দিল স্বামী

Wednesday, April 18th, 2018

ইসলামাবাদের দিনমজুর হাতির আক্রমণে নিহত

Wednesday, April 18th, 2018

রামুতে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপন

Wednesday, April 18th, 2018

রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় সরকারিকরণে খিজারী উৎসব ২৮ এপ্রিল

Wednesday, April 18th, 2018

আইপিএল নিয়ে জুয়ায় জড়িয়ে পড়ছে উখিয়ার যুবকরা

Wednesday, April 18th, 2018

ঈদগাঁওতে বর্ষবরণ উপলক্ষে সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

Monday, April 16th, 2018

মাওলানা আব্দুচ্ছালাম কুদছী রহ. এর কর্মময় জীবন ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের প্রেরণা

Monday, April 16th, 2018

ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে সড়ক দূর্ঘটনায় হতাহত ২

Sunday, April 15th, 2018